রাহুল নামে এক যুবক কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে একা দাঁড়িয়ে থাকাকালীন বৃষ্টির মধ্যে মিতালী নামে এক অচেনা মেয়ের সাথে হঠাৎ পরিচিত হয়। মিতালীও নতুন এই শহরে এসেছে এবং বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসে। তারা একসাথে একটি কফি শপে যায়, যেখানে একে অপরের জীবনের গল্প শেয়ার করে। তাদের মধ্যে একটি গভীর সংযোগ তৈরি হয়, যদিও তারা জানে এই পরিচয়টা হয়তো সাময়িক। গল্পের শেষে মিতালী বিদায় নেয়, রাহুলের মনে রেখে যায় একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। তাদের এই হঠাৎ পরিচয়ের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় এক মিষ্টি, ক্ষণস্থায়ী প্রেমের অনুভূতি।
রাতের অন্ধকার যখন ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছিল, তখনও কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে একা দাঁড়িয়ে ছিল রাহুল। বৃষ্টি নামবে নামবে ভাব, বাতাসে একটা অদ্ভুত ঠাণ্ডা। হঠাৎ করেই তার চোখে পড়ল একটা মেয়ে, অচেনা কিন্তু অদ্ভুতভাবে পরিচিত। মেয়ে টি ধীর পায়ে ক্যাম্পাসের গেটের দিকে এগিয়ে আসছে। তার হাতে একটা ছাতা, কিন্তু তার ভেজা চুল আর ভিজে জামাকাপড় বলছে যে বৃষ্টি তাকে কিছুক্ষণ আগেই ধরেছে।
রাহুলের মনে একরকম কৌতূহল জাগল, "কে এই মেয়ে? এই সময় এখানে কী করছে?" সে মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেল। মেয়েটি কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়াল, তারপর মৃদু হেসে বলল, "আপনিও কি এই বৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন?"
রাহুল হেসে বলল, "আসলে ঠিক তাই। কিন্তু আপনার ভেজা অবস্থা দেখে তো মনে হচ্ছে আপনি এই বৃষ্টির সৌন্দর্য একটু বেশিই উপভোগ করছেন।" মেয়েটি আবারও মৃদু হাসল। এই হাসির মধ্যে একটা অদ্ভুত মায়া ছিল।
মেয়েটির নাম ছিল মিতালী। সে রাহুলের মতোই নতুন এই শহরে। পড়াশোনার জন্য একাই এসেছে, এই শহরের সাথে এখনো তেমন পরিচিত নয়। রাহুলও তেমন নতুন নয়, কিন্তু এই শহরের প্রত্যেকটি কোণা তার কাছে এখনো একধরনের রহস্যময়।
বৃষ্টির শব্দে কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা ভেঙে গেল। মিতালী বলল, "আমি বৃষ্টিতে ভেজা খুব ভালোবাসি, কিন্তু আজ একটু বেশি ভিজে গেলাম। আপনি কি একটু সময় দেবেন? কাছেই একটা কফি শপ আছে, আমরা দুজন মিলে কফি খেয়ে নিতে পারি।"
রাহুলের মনে কোনো দ্বিধা ছিল না। "চলুন," বলল সে। এই হঠাৎ প্রস্তাবে রাহুল কিছুটা অবাক হলেও, মিতালীর আন্তরিকতায় সে কিছুটা টানা অনুভব করছিল।
কফি শপে ঢুকতেই গরম কফির ঘ্রাণ আর স্নিগ্ধ বাতাসে ভিজে যাওয়া মিতালীর সাথে বসে থাকা মুহূর্তটা বেশ রোমাঞ্চকর হয়ে উঠল। তারা দুজনেই একে অপরকে জানতে চাইল, জীবনের ছোট ছোট গল্পগুলো ভাগ করে নিতে শুরু করল। মিতালী জানাল, তার শৈশব কেটেছে একটি ছোট গ্রামে। বাবা-মা দুজনেই স্কুলের শিক্ষক, তাই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহটা ছোট থেকেই ছিল। রাহুলও তার শৈশবের কথা বলল, কেমন করে সে ছোট থেকে বড় হয়েছে শহরের কোলাহলে, কিন্তু আজ এখানে এসে একাকিত্বে ডুবে যাচ্ছে।
মিতালীর হাসিমাখা মুখটা রাহুলের মনে গভীর ছাপ ফেলল। মিতালীও অনুভব করল, রাহুলের সাথে তার পরিচিতির খুব কম সময় হলেও, যেন সে অনেক দিন ধরেই রাহুলকে চেনে। তাদের কথার মধ্যে এমন একটি মায়া তৈরি হলো, যেন সময় থেমে গেছে।
কফির কাপ শেষ হতেই, তারা আবার বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে এল। এবার বৃষ্টি থেমে গিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার। কিন্তু মিতালী হঠাৎ করেই চুপ হয়ে গেল। তার চোখে কিছুটা বিষণ্ণতার ছাপ পড়ল।
"কী হলো?" রাহুল জিজ্ঞাসা করল।
মিতালী একটুও ইতস্তত না করে বলল, "রাহুল, তুমি জানো, আমাদের এই পরিচয়টা হয়তো আজকের রাতেই শেষ হবে। আগামীকাল হয়তো আমরা আমাদের আলাদা পথে হাঁটব। কিন্তু এই মুহূর্তটা, এই বৃষ্টি, এই কফির দোকান—সব কিছুই যেন একটা স্মৃতির পাতায় লেখা থাকবে।"
রাহুল কিছু বলতে পারল না। তারও মনে হচ্ছিল, মিতালী হয়তো ঠিক বলছে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই কিছু না কিছু হারাতে হয়, কিছু না কিছু পেতে হয়। কিন্তু আজকের এই মুহূর্তটা, এই হঠাৎ পরিচয়, এই অনুভূতিটা হারানোর নয়।
তারা দুজনে হাঁটতে শুরু করল, পথে কোনও কথা হলো না। তবে দুজনের মধ্যেই ছিল এক ধরনের গভীর সংযোগ। তারা ক্যাম্পাসের গেটের কাছে এসে থামল। মিতালী বলল, "ধন্যবাদ, রাহুল। আজকের রাতটা সত্যিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
রাহুল একটু হেসে বলল, "হয়তো আমরা আবারও দেখা করব, হয়তো কখনও না। কিন্তু এই মুহূর্তটা সবসময় মনে থাকবে।"
মিতালী একটু মাথা নেড়ে বিদায় জানাল। তার চোখে ছিল অশ্রু, কিন্তু সেই অশ্রুর মধ্যেও ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি। রাহুল দাঁড়িয়ে রইল, মেয়েটি দূরে হারিয়ে গেল, আর তার সাথে নিয়ে গেল এক হঠাৎ প্রেমের স্মৃতি।
এই গল্পটি হয়তো এখানেই শেষ, কিন্তু তাদের হৃদয়ের মধ্যে এই মুহূর্তগুলো জীবন্ত থাকবে চিরকাল।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন