• আমাদের ব্লগে স্বাগতম! এখানে আপনি পাবেন বিভিন্ন ধরনের বাংলা গল্প, নাটক, বাংলা ক্যাপশন, ভালোবাসার গল্প এবং ভুতের কাহিনী। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের মাধুর্য ও বৈচিত্র্য তুলে ধরা। প্রতিটি গল্প এবং কাহিনীতে আমরা চেষ্টা করি পাঠকদের এক নতুন জগতে নিয়ে যেতে, যেখানে তারা হাসি, কান্না, প্রেম, ভয় এবং রহস্যের অনুভূতি একসাথে উপভোগ করতে পারেন। আপনার মনকে উদ্দীপ্ত করতে এবং হৃদয়কে ছুঁয়ে যেতে আমাদের সাথে থাকুন। নতুন নতুন গল্প ও চিন্তা নিয়ে আমরা সবসময় আপডেট থাকি, তাই নিয়মিত ভিজিট করতে ভুলবেন না!

    চটিগল্প - বাবা-ছেলের কাণ্ড

    সুমন একটা ছোট্ট গ্রামের ছেলে। তার বয়স ১০ বছর। সে ক্লাস ফাইভে পড়ে। সুমনের বাবা, মধুসূদন, গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক। তারা দুইজনই খুব মজার মানুষ। গ্রামের লোকজন তাদেরকে ভালোবাসে কারণ তারা সবসময় হাসিখুশি থাকে এবং অন্যদেরও আনন্দ দেয়।


    চটিগল্প

    একদিন, সুমনের স্কুলে একটি বিজ্ঞান মেলা আয়োজন করা হলো। স্কুলের স্যাররা সবাইকে নির্দেশ দিলেন যে, প্রত্যেক ছাত্রকে মেলায় কিছু না কিছু তৈরি করে আনতে হবে। সুমন চিন্তায় পড়ে গেল। কী করবে, কী বানাবে? সে কোনো কিছু বানাতে জানে না।


    সুমন বাড়িতে ফিরে তার বাবাকে বলল, "বাবা, স্কুলে একটা বিজ্ঞান মেলা আয়োজন করা হয়েছে। সবাই কিছু না কিছু বানাবে। আমি কী বানাবো?"


    মধুসূদন একটু ভেবে বলল, "তুই চিন্তা করিস না। আমি একটা মজার কিছু বানাবো, যা দেখে সবাই অবাক হয়ে যাবে।"


    সুমন খুশি হয়ে গেল। তার বাবা যখন কিছু বানাবে, সেটা নিশ্চয়ই অসাধারণ কিছু হবে। মধুসূদন নিজেই একটু চিন্তায় পড়ল। সে কী বানাবে? সে তো কোনো বিজ্ঞানী নয়। তবু সে নিজের দায়িত্ব পালনের জন্য সবরকম চেষ্টা করতে লাগল।


    মধুসূদন বাড়ির পুরনো জিনিসপত্র ঘেঁটে একটা লোহার গামলা, পুরনো প্লাস্টিকের বোতল, কিছু তার এবং কয়েকটা ছেঁড়া পাখা পেল। সে এইসব জিনিস দিয়ে একত্রে একটা মজার মেশিন তৈরি করল। তার মতে, এটা একটা বিশেষ 'বৃষ্টি তৈরির মেশিন'।


    মধুসূদন মেশিনটা বানিয়ে সুমনকে দেখিয়ে বলল, "এটাই তোর মেলা প্রকল্প। এটাকে বলবে, 'বৃষ্টি তৈরির মেশিন'।"


    সুমন মেশিনটা দেখে একটু অবাক হলো, কিন্তু বাবাকে বিশ্বাস করে সে এটা নিয়ে গেল স্কুলে।


    মেলার দিন, সবাই তাদের প্রকল্প নিয়ে হাজির হলো। কেউ বানিয়েছে ভলকানো মডেল, কেউবা রকেট, আবার কেউ কেউ বানিয়েছে সোলার সিস্টেম। সুমন তার মেশিনটা নিয়ে একটু লজ্জা পেল, কিন্তু তার বাবার উপর ভরসা রেখে সাহস করে সেটা নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।


    স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং অতিথিরা একে একে ছাত্রদের প্রকল্পগুলো দেখতে শুরু করলেন। যখন তারা সুমনের কাছে এলেন, তখন সুমন বলল, "স্যার, এটা হলো বৃষ্টি তৈরির মেশিন।"


    সুমনের কথা শুনে সবাই হেসে উঠল। একজন শিক্ষক বললেন, "এটা কীভাবে বৃষ্টি তৈরি করে?"


    সুমন কিছু বলতে পারল না। কারণ, সে নিজেও জানে না। অতিথিরা মেশিনটার দিকে তাকিয়ে ছিল, হঠাৎ করে এক টুকরো মেঘ এসে আকাশ ঢেকে ফেলল। তারপর শুরু হলো বৃষ্টি। সবাই অবাক হয়ে গেল। সুমন নিজেও অবাক। কেউ বুঝতে পারল না, ঠিক কীভাবে এটা হলো।


    আসলে মধুসূদন জানত যে, বর্ষাকালে তাদের গ্রামে সন্ধ্যা বেলায় হঠাৎ করে বৃষ্টি আসে। তিনি সুমনকে সময়মতো মেলা নিয়ে যেতে বলেছিলেন, যাতে প্রকৃতির বৃষ্টি আসার সময়টা সঠিকভাবে মেলায় ঘটে যায়। মধুসূদনের এই কৌশল সবাইকে হাসিয়ে ফেলল, কিন্তু একই সঙ্গে প্রশংসিত হলো তার বুদ্ধিমত্তা।


    সুমনের মেশিন মেলায় সেরা পুরস্কার পেল। সবাই জানল, এটা প্রকৃতির বৃষ্টি, কিন্তু মধুসূদনের পরিকল্পনার জন্য সুমন বিজয়ী হলো। সুমন তার বাবাকে ধন্যবাদ জানাল, আর মধুসূদন হাসতে হাসতে বলল, "দেখলি তো, বাবা-ছেলে মিলে কী মজার একটা কাজ করে ফেললাম!"


    #চটিগল্প #চটি গল্প

    কোন মন্তব্য নেই:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন